রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ :
সিলেটে সুরমার বুক কেটে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য গোবিন্দগঞ্জে টি-টেন ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সম্পন্ন বালিটেকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালন মাজার জিয়ারতে আগতদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চান মেয়র আরিফ মা যাদের রান্না করে খাওয়াতেন তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত সিলেটে বাসায় যুবকের ঝুলন্ত লাশ, ফিলিপাইনি তরুণীর সাথে ফ্রেমবদ্ধ ছবি উদ্ধার ‘ধনীদের উচিত গরীবদের বিয়ে করা’- ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ পুলিশের ব্যানারে ভাষাসৈনিকের বদলে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি
আসছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ২.০’

আসছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ২.০’

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ ‘২০২১ সালের লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ’, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে যে নির্বচনি ইশতেহার প্রকাশ করে, তাতে লেখা ছিল এই বাক্যটি। ওই বাক্যের  মধ্যেই নিহিত ছিল বিরাট এক কর্মযজ্ঞ, একটি ভার্চুয়াল দেশ। ২০২১ সাল যতই ঘনিয়ে আসছে— ততই দৃশ্যমান ডিজিটাল বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা, কিন্তু এরপর কী?

আগামী বছর বাংলাদেশ সেই রূপরেখা ‘ভিশন ২০২১’- এ পৌঁছবে। বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল। তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরে কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে জানা গেলো, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল হওয়ার একটা স্তরে উন্নীত হবে। এরপরে শুরু হবে পরবর্তী ধাপ। সেই ধাপকে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ২.০।’ আগামীতে যেসব প্রযুক্তি আসবে সেসবকে গ্রহণ ও ব্যবহার করার পর্বকে বলা হবে ‘২.০’। একেক স্তরে গিয়ে নতুন সংস্করণ যোগ হতে পারে। সেই স্তরকে ডাকা হতে পারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ২.১… ২…৩ এভাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটি হলো— একটি সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেম। ওই ইকোসিস্টেমে সব কিছু একসঙ্গে ‘ওয়ার্ক’ না করলে এই ধারা বা ইকোসিস্টেমটি ‘রান’ করবে না। ফলে দেশের মানুষকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা এবং সময়ের সঙ্গে চলার নামকেই বলা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরের ধাপ।       

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি, আন্দোলন ও ইকোসিস্টেমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা আমরা ব্যাখ্যা হিসেবে বলছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ হলো ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা’। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা যখন আমরা চিন্তা করেছি বাস্তবায়ন করবো, সেটা ২০০৮ সালের কথা। সে সময় আমাদের মনে হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫০ বছর যখন হবে, তখন এটাও আমাদের অর্জন করা হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ থেকেই আমরা চিন্তা করেছি ২০২১ সালের কথা। এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের অনেক অগ্রগতি হবে। অনেক সূচকে আমরা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ফেলতে পারবো। পরবর্তীতে যেসব অগ্রগতি সাধিত হওয়ার দরকার সেগুলোও আমরা করেছি।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলবো, তবে তার হাতিয়ার হবে ডিজিটাল প্রযুক্তি। মূল বিষয় হলো— বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ডিজিটাল প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করেই হবে।’ মন্ত্রী মনে করেন, বাংলাদেশ প্রথাগতভাবে একটা কৃষিভিত্তিক দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। এগুলো মোকাবিলা করেই আমরা আমাদের ভিত্তি রচনা করছি। শিল্পে আমরা জোর দিইনি। ফলে আমাদের জন্য একটা কৃষিভিত্তিক দেশকে ডিজিটাল হাতিয়ার দিয়ে সোনার বাংলা করা— এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা যাত্রা শুরু করেছি।’

মন্ত্রী কয়েকটি স্তরের কথা, তথা পথরেখা নির্দিষ্ট করেন এভাবে— ২০২১ সালের মধ্যে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার একটা স্তর আমরা পার হলাম। কিন্তু আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা বলতে বোঝায়— একটি উন্নত দেশ। যেটা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ। সারা দুনিয়ার টার্গেট হলো ‘এসডিজি গোল-২০৩০’।  প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে যে ইশতেহার করেন তাতে তিনি ঘোষণা দেন— ২০৩০ সালে আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক দেশ গড়তে চাই। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত ও সম্মৃদ্ধ একটি দেশে পরিণত হতে চাই। আমাদের ওই ফ্যাক্টরটা থাকবে— ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ। এই জায়গাটার প্রতি আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এবার ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা করেছি। এই মেলার প্রধানতম উদ্দেশ্য ছিল— আমরা কী অর্জন করেছি এবং আমাদের কোথায় যাওয়া দরকার।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ৪.০ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সারাবিশ্ব চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য লড়াই করছে। আমরা এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবো না। উন্নত দেশগুলো চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে যেভাবে অংশ নেবে, আমরা তাদের পথে হাঁটবো না। আমরা হাঁটবো আমাদের পথে। এ পথগুলো এরমধ্যেই আলাদা হয়ে গেছে। উন্নত দেশগুলো চেষ্টা করছে, মানুষের বিকল্প হিসেবে রোবটকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। আমরা যেটা করবো তাহলো— রোবটের মাধ্যমে কর্মক্ষম মানুষকে সহযোগিতা করা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে অল্প বয়সী মানুষের সংখ্যা ৬৫ শতাংশের বেশি। আমাকে ভাবতে হবে আমাদের মানুষের মেধা, মনন, সৃজনশীলতাকে ব্যবহার করে, আমি যেন শিল্প যুগের নেতৃত্ব দিতে পারি। এটা আমাদের পক্ষে করা সম্ভব।’ তিনি উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যারা শিল্পবিপ্লবে অংশ নিতে চায়, সেসব দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের মধ্যে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কম। অন্যদিকে তাদের মধ্যে অল্প বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০-২৫ শতাংশ। ওইসব দেশ ভাবছে বয়স্ক মানুষের বিকল্প হিসেবে যন্ত্র ব্যবহারের কথা। যেটা আমরা করবো না।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে যেখানে যেখানে যন্ত্র ব্যবহার করার প্রয়োজন, সেখানে করা হবে, কিন্তু মানুষকে বাদ দিয়ে নয়। এটা নিয়ে দেশে দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জাপান বলছে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্বকে মানবিক সভ্যতার বদলে যান্ত্রিক সভ্যতা উপহার দেবে। যন্ত্রকে মানুষের কাজে লাগাতে হবে, যন্ত্রকে মানুষের বিকল্প করা যাবে না। মানুষের দক্ষতা বাড়াতে যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে সেই যন্ত্র চালাতে প্রয়োজন হবে দক্ষ জনবল। যন্ত্র হবে মানুষের সহযোগী। আমরা এই ধারার পক্ষে। আমাদের বেসিক এডুকেশন সিস্টেম তথা যে পদ্ধতিতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিচ্ছি, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত, সেটা আমাদের বদলাতে হবে। যে পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে সেই পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে হবে। যে পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছি সেটা আমার ভবিষ্যতের শিক্ষা না। আমরা যদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে না পারি, তাহলে তারা দক্ষ হয়ে গড়ে উঠবে না। আমরা যে পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছি তা যথেষ্ট নয়। আসলে আমাদের এমন কোনও মানুষ থাকবে না, যারা ডিজিটালি সাক্ষর নয়, তাদের ডিজিটাল জ্ঞান থাকবে না। এটা একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করতে হবে।’

তিনি মনে করেন, আমাদের প্রায়োরিটি কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, কেবল উন্নত হওয়া নয়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং বৈষম্যহীনও হওয়াও নয়,  সব ধরনের বৈষম্য দূর করাও নয়। যেগুলো এসডিজি গোলের মধ্যে যোগ করা হয়েছে সেটা আমাদের প্রয়োরিটি এবং এগুলোই বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা। সেই ঘোষণাই যদি বাস্তবায়ন করি তাহলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ পাওয়া যাবে। আমাদের তো কথাই ছিল বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বো, ডিজিটাল প্রযুক্তিই হবে হাতিয়ার।

এক প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এই আন্দোলন ও কর্মসূচির নাম ডিজিটাল বাংলাদেশই থাকবে। কারণ, আমরা তো এখনও লক্ষ্যে পৌঁছাইনি।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ ২.০। বিষয়টি মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা একটা স্তর অতিক্রম করবো। সেটা বোঝাতেই এটা বলা হচ্ছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত যে প্রক্রিয়াতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা হচ্ছে, ২০২১ সালের পরে সেটা ভিন্ন হবে। আমরা কৃষিভিত্তিক একটা দেশকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর সমতলে এনে দাঁড় করাতে পেরেছি। এই প্রচেষ্টা ২০২১ সাল নাগাদ থাকবে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে সব ফিগারে (মোবাইল ব্যবহার, ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ইত্যাদি) আমরা এখন আর পেছনে নেই। কিন্তু সামনে রয়েছে বিগডাটা, রোবটিকস, আইওটি, ডাটা অ্যানালাইটিকস, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, ব্লকচেইন, ক্লাউড, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইত্যাদি।  এতদিন আমরা কম্পিউটারভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। এখন আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে ডিজিটাল টেকনোলজিতে। আগে আমাদের গুরুত্ব ছিল আইসিটিতে, আগামীতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে ডিজিটাল টেকনোলজিতে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হলো তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের বিষয় বা ৩.০। এখন চতুর্থতে থাকতে হলে ফাইভ-জি এবং এ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে ।’

মোস্তাফা জব্বার  বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ২.০ বলতে আমি বোঝাতে চাই, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ ২.০ –এর দ্বিতীয় স্তরে, প্রযুক্তির ধারাবাহিকতায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করবো।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ