শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

দেশের ক্রান্তিলগ্নে বড়লেখায় দৌলতপুর বাজার স্পোর্টি ক্লাবের কাজ সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত !

দেশের ক্রান্তিলগ্নে বড়লেখায় দৌলতপুর বাজার স্পোর্টি ক্লাবের কাজ সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত !

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শৈশবে গ্রাম বাংলার ছেলেরা খেলাধুলা করে,কারণ খেলা তাদের আনন্দ দেয়।খেলা শুধু আনন্দই দেয় না, খেলার মাধ্যমে দৈহিক, মানসিক, সামাজিক দক্ষতার বিকাশ ঘটে। খেলাধুলা বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়, সহনশীলতা ও সহমর্মিতা শেখায় এবং ভাগাভাগি করে নেওয়ার মনোভাব তৈরিতে সাহায্য করে।খেলাধুলার মধ্য দিয়ে একে অপরের একটি ভালো সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।একে অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে, অন্যকে বুঝতে শেখে, অন্যের অনুভূতিকে মূল্য দিতে শেখে।খেলাধুলা তাদের মধ্যে ন্যায় অন্যায় বোধ জাগ্রত করে।

খেলার মধ্য দিয়ে শৈশবেই কল্পনা ও নতুন কিছু সৃষ্টির চর্চা করে।শৈশবে বেড় উঠার বছরগুলোতে যখন একজন ছেলের মস্তিষ্ক পড়ালেখার জন্য প্রস্তুত থাকে না, তখন খেলার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শিখতে পারে। যেমন শব্দ, অক্ষর, সংখ্যা মুখস্থ করার চেয়ে খেলার মাধ্যমে অনেক কিছু শেখানো সহজ হয়। আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, খেলা শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা দেখেছেন যে, খেলাধুলা শারীরিক ও সামাজিক দক্ষতা অর্জনের সহজ মাধ্যম যেটি তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে খাপ খাওয়াতে সহায়তা করে। খেলা অভিজ্ঞতা বাড়ায়, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার চর্চা বিনোদনের মাধ্যম।খেলাধুলা অপরাধ প্রবণতা থেকে রক্ষা করে।

এর দৃষ্টান্ত উধাহরণ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দৌলতপুর বাজার স্পোর্টিং ক্লাব।ক্লাবটি স্থাপিত হয় ২০০০সালে।ক্লাবটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাবের যে সদস্যরা সম্পৃক্ত ছিলেন উনারা বেশিরভাগ আজ সুদুর প্রবাসে জীবন যাপন করছেন। কিন্তু ছোট বেলায় খেলাধুলার মাধ্যমে যে শিক্ষাগুলো অর্জন করেছিলেন এবং এর ধারাবাহিকতায় আজ পর্যন্ত যারা এই শিক্ষা অর্জন করেছেন তা দেশের এই ক্রান্তিলগ্লে প্রমান পাওয়া যাচ্ছে।মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রার্ধুভাব বাংলাদেশে পড়ার পরে সরাকারী নির্দেশনায় জরুরী বিত্তীতে সাময়িক ভাবে সাধারণ মানুষের সব কাজ কর্ম বন্ধ রেখে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হলে তখন সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে দিন-মজুর খেটে খাওয়া পরিবারগুলি।

এরকম পরিস্থিতি বড়লেখার দৌলতপুর বাজার স্পোর্টিং ক্লাবের প্রবাসী সিনিয়র ক্রিকেটারদের আর্থিক সহযোগিতায় উনাদের নিজ গ্রামবাসী ও পাড়া প্রতিবেশিদের একাধিক খাবার নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ সহ নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২১মে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৫৭টি পরিবারের মাঝে ঈদ খাদ্যসামগ্রী ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছেন দেশে অবস্থানরত ক্লাবের সদস্যরা।

ক্লাবের এক সদন্য তায়েফ আহমেদ জানান,দেশের দুর্যোগময় এই মুহূর্তে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রবাসী ক্রিকেটারদের আর্থিক সহযোগিতা ও নির্দেশে আমরা আজ ৫৭টি পরিবারের মধ্যে ঈদের খাবার পৌছে দিয়েছি।দেশের এই সমস্যা যতদিন থাকবে আমাদের এলাকাবাসীর জন্য ক্লাবের এই সহযোগিতা অব্যহত থাকবে।আমরা যাদের কারনে আজকে এই আর্তমানবতার মহৎ কাজটি করতে সক্ষম হচ্ছি তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ