শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

মরতে মরতে যদি বেচে যাই

মরতে মরতে যদি বেচে যাই

“হাম্মাদ হোসেন”

টিউশনি শেষ করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরার পথে সাইকেল থামিয়ে একটা নিউজ পেপার নিলাম।

খুব একটা মনোযোগ দিয়ে পড়বো বলে বাসায় আসলাম।ক্লান্তির পর ক্লান্তি।

গ্রাম থেকে দুঃসম্পর্কের একজন চাচা মেডিকেল এসেছেন।সাথে উনার ছোট ছেলে।ছেলের হাতে প্রব্লেম।

কয়েকদিন আগেই নাকি মিলে কাজ করতে যেয়ে এই সমস্যা। হাতের আংগুলের অনামিকা আর কনিষ্ঠের অর্ধেকটাই হারিয়েছে!

অসুস্থ আংগুলের যন্ত্রণা সহ্য হচ্ছেনা বলেই শহরের ডাক্তার দেখাতে আসা।এমনিতে, গ্রামের মানুষ ডাক্তারের কাছে তেমন একটা প্রয়োজন মনে করে না।

আজ তাকে নিয়ে হয়তো আমার সব ব্যস্ততা বাড়বে মনে হচ্ছিল। কিন্তু,আমি মেডিকেলের বারান্দায় যেতেও ভয় পাই।তাহলে কিভাবে আমি তাকে নিয়ে মেডিকেলে যেতে পারি?

চিন্তার কারণ নেই-

আমি বাহিরের কাজ গুলো করবো আর হাসানের দ্বারা মেডিকেল ইন্ডোরের কাজ চালিয়ে নেয়া যাবে।

এই ভেবে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ি। মেডিকেলে আসার পরে চিন্তার পরিবর্তন। আমিও ভেতরে ঢুকলাম। মেডিকেল থেকে পেশেন্টদেরকে সীট কেটে বাড়ি যাওয়ার তাগিদে অবাদে কাজে ব্যস্ত স্টাফরা।

তেমন একটা ভীড় নেই।সবাই যার যার মতো ব্যাগ ঘোচাচ্ছে।বাড়িতে যাবেন।নয়তো, প্রাইভেট মেডিকেলে।

এতোসব দেখার পরে হাসানের কাছে সব দায়িত্ব দিয়ে আমি একটু বাহিরে এসে জিজ্ঞেস করছি।

মেডিকেলে সমস্যা কি?

জনৈক উত্তরে বললেন- করোনা নাকি দেশে বেড়ে যাচ্ছে।

লকডাউনের পরিকল্পনা চলছে।তাই।

বাসায় চলে এসে খবরের পাতায় লকডাউন এর খবর না পেলেও ইশারা ইজ্ঞিতে বোঝার বাকি ছিলোনা যে দেশের অবস্থা শোচনীয় হতে যাচ্ছে।

হাসানকে কল দিলাম।

স্টুডেন্ট এর অভিভাবকদের জন্য মেসেজ পাঠালাম।

বাড়িতে আসার জন্য পুরো প্রস্তুতি নিয়ে সন্ধ্যা সিলেট ত্যাগ করলাম।

আজ মাস পার হয়ে গেলো- বাড়িতে আছি।

প্রতিদিন মোবাইলে অথবা বইয়ের  পৃষ্টা নিয়ে ঘরে পড়ে আছি। বিরক্তি নিয়েই পড়ে আছি!

কতোদিন হলো – শহর দেখি না, রিয়াদের বানানো চা চুমুক দেই না, মেডিকেলের মাঠে সময় কাটাই না, রাতের গভীরে সাইকেল রাইড করি না, হঠাৎ করে ভোর বেলা স্টুডেন্ট এর কল পাই না, ছাদের উপর থেকে পাশের বস্তির বাচ্চাগুলোর সাথে দেখা হয় না!,

আড্ডা দেওয়া হয় না টিউশন সেবার কারোর সাথে।

এতোসব কি করে সম্ভব?

এতোদিন ধরে, কাছের মানুষ, প্রিয় জিনিস,প্রিয় শখ গুলাকে দূরে রেখে আমি দুয়েকটা পাখির আওয়াজ শুনেই দিন কাটিয়ে দেই!

প্রতিদিন আড়াইটা হলেই নিউজ ফিডে দেখি কতজনকে করোনায় মেরে দিলো আর কতজনকে করোনায় করুণা করে ছেড়ে দিল।

করোনায় করুণা করে মুক্তি দিতে চায়,নাকি আমরা করোনাকে করুণা করে প্রশ্রয় দিচ্ছি?

কে কি করছে এতো জানা নেই।

আমরা প্রশ্রয় দিচ্ছি যে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

করোনা চীন থেকে বিশ্বের হয়ে গেলো।তার একমাত্র কারণ সচেতনতার অভাব, অবহেলা, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব।

দেশে ৮মার্চ করোনা রোগীর সন্ধান মিললেও ২০মার্চ পর্যন্ত বুঝা ই যায় নি। এদেশেও করোনা রোগী আছে।

সময় মতো চিকিৎসা হয় নি,টেস্টে ছিল পর্যাপ্ত দুর্বলতা, প্রবাসীদেরকে কোয়ারেন্টাইনের নামে জনসমাগম করে রাখা হয়েছিল।

যেগুলো করোনা এট্যাকের মূল কারণ।

অবহেলা থেকে আজ ভয়ংকর রুপ নিলো করোনা।

সন্তান মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত কেবল একটি অবহেলার কারনে।

মায়ের কুলে বসে শান্তিতে দুধ খাওয়ার চিন্তায় পথের দিকে থাকি আছে ওয়াসি নামের ৪মাসের বাচ্চাটি।

লেখকের চোখ পড়ে আছে নারিকেলের গাছে ঝুলানো চড়ুইদের আনাগোনার দিখে।

কবে ফিরবে আমাদের দিন?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ