শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ০৮:০২ অপরাহ্ন

মানুষ মানুষের জন্য অসহায়দের বন্ধু সুমন আহমদ চৌধুরী

মানুষ মানুষের জন্য অসহায়দের বন্ধু সুমন আহমদ চৌধুরী

“সাইফুর রহমান”

আমি আজ যার কথা লিখতে যাব, তিনি সবার পরিচিত একজন মানুষ। একজন মানুষ সবার কাছে পছন্দের হতে পারেনা। কেউ পছন্দ করে কেউবা আবার অপছন্দ করতে পারে। কিন্তু যারা সমাজের সচেতন মানুষ তারা সবাই যেকোন ব্যক্তির ভাল দিক গুলো নিয়ে প্রশংসা করে।

আপনারা যাকে দেখছেন কাঁধে করে ব্যাগ নিয়ে হাটছেন তিনি হলেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন আহমদ চৌধুরী। বর্তমান করোনা ভাইরাসে সবাই যখন লক ডাইনের কারনে অসহায় হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। এমন সময় মানুষের খুজখবর নিয়ে নিজের কাঁধে করে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিতেছেন অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে।

কয়েকদিন থেকে এভাবে বিভিন্ন জনের ফেইসবুক আইডিতে ছবি দেখে মনে হত,হয়তো নিজেকে ভাইরাল করার জন্য প্রতিদিন সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী মানুষকে দিয়ে ছবি এক/দুইটা তুলে প্রচার করতে ব্যস্ত। আজ একজন পরিচিত ব্যক্তির মুখ থেকে কিছু কথা শুনে আমি অভাক হয়ে যাই। সত্যতা জানার জন্য সুমন ভাইকে ফোন দিয়ে সত্যতা জানি। এমন মানুষ সমাজে আছেন বলে আমার জানা ছিলনা। কিন্তু সুমন ভাইর মানবিক কাজের কথা শুনে দুই লাইন লিখতে ইচ্ছে হল। একজন পরিচিত ব্যক্তি আমাকে বললেন,আমাদের ৯ নং ওয়ার্ডের মানুষ কোন কষ্ট করবেনা। আমি জানতে চাইলাম কেন?

তখন তিনি বলেন, সুমন মেম্বারের মত একজন মানুষ আমাদের ওয়ার্ডে আছেন। যিনি প্রত্যেক ঘরে ঘরে অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন। সরকারি সহযোগিতা ব্যতিত নিজের অর্থায়নে মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন,নিজের ওয়ার্ডের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্ত্রীর স্বর্ণ বিক্রি করে খাদ্যসামগ্রী অসহায়দের মাঝে বিতরণ করছেন। স্বর্ণের কথা শুনার পর আমি সত্যতা জানার জন্য সুমন ভাইকে ফোন দেই। অনেক কথা বলার পর স্বর্ণের কথা জিজ্ঞেস করলে প্রথমে বলতে চাননি। একসময় বললেন,তুমি যা শুনছ তা সত্যি। কিভাবে ৮ ভরি স্বর্ণ এনে বিক্রি করলেন কাহিনি বললেন।

আমি এইসব কথা শুনার পর অনেক সময় নিরব রইলাম। সুমন ভাইর কথা হল,আমি যদি বাঁচি তাহলে তোমার ভাবিকে বলেছি স্বর্ণ কিনে দিব। আগে আমার এলাকার মানুষ এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় বাঁচুক। সুমন ভাইর কাছ থেকে জানতে পারলাম, এমনিতেই প্রত্যেক অসহায় পরিবারের মধ্যে যার যেসময় দরকার খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন। তিনি Food Peak for A Month নামে উনার ওয়ার্ডে একটি প্যাকেজ চালু করেছেন, যার উদ্দেশ্য একটি পরিবারকে এক মাসের খাবার দেওয়া।

এটি তিনি প্রথমত নিজেস্ব অর্থায়নে শুরু করেছিলেন, পরবর্তীতে উনার সাথে একাত্বতা পোষণ করে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন ৯ নং ওয়ার্ডের প্রবাসী, কামাল আহমদ, রায়হান হোসেন চৌধুরী, মিনহাজ খান মিজু, কামরুল চৌধুরী চমক, হাফেজ কামরুল ইসলাম, মিজান খান, আফজল হোসেন, ফাহাদ মর্তুজাসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কিছু সংখ্যক প্রবাসী, উনার নিজস্ব অর্থায়নে এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত ৩১টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিয়েছেন।

প্রত্যেকটি প্যাকেজের মূল্য দশ হাজার টাকা করে। এছাড়াও প্রতি রাতে ১০/১৫ পরিবারকে এক সপ্তাহের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, যার প্রত্যেকটা প্যাকেজের মুল্য ১৩০০ থেকে ১৮০০ টাকা। সুমন আহমদ ভাই বলেন,আগামিতেও এই কার্যক্রম বজায় থাকবে। আমরা বারহালবাসী গর্বিত। কারন আমাদের অনেক প্রবাসী ও দেশি ভাইরা আছেন, যাদের সহযোগিতা বারহালের অসহায় মানুষ সবসময় পেয়ে থাকে। সুমন আহমদ চৌধুরী ভাই সহ যারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সকলের জন্য শুভ কামনা রইল। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন আপনাদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু দান করেন।

লেখকঃ সাইফুর রহমান

সমাজকর্মী


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ