রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ :
বিয়ানীবাজারে নাহিদ-পল্লব কাছাকাছি, নিরাপদ দূরত্বে আতাউর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি : সিলেটে কমে আসছে অপরাধ প্রবনতা আরিফ আজাদের বই বিক্রিতে কেন বাধা! -মুহাম্মদ রাশেদ খান সিলেটে সুরমার বুক কেটে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য গোবিন্দগঞ্জে টি-টেন ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সম্পন্ন বালিটেকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালন মাজার জিয়ারতে আগতদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চান মেয়র আরিফ মা যাদের রান্না করে খাওয়াতেন তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত সিলেটে বাসায় যুবকের ঝুলন্ত লাশ, ফিলিপাইনি তরুণীর সাথে ফ্রেমবদ্ধ ছবি উদ্ধার
মেডিক্যাল শিক্ষায় খামখেয়ালি

মেডিক্যাল শিক্ষায় খামখেয়ালি

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ দেশের সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা হয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায়। বিজ্ঞান বিভাগের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেমেয়েরা চিকিৎসক হওয়ার প্রত্যাশায় মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেন। ব্যায়বহুল এই শিক্ষায় সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন সীমিত হওয়ায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর অঙ্কুরেই স্বপ্ন ভঙ্গ ঘটে। কিন্তু স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের খামখেয়ালি ও দায়িত্বহীনতার কারণে ২১ সিট খালি থাকলেও অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়নি। রহস্যজনকভাবে গতকাল বুধবার সিটগুলো খালি রেখেই সরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। এ যেন বিমানের অসাধু সিন্ডিকেটের টিকেট কালোবাজারিতে সিট খালি রেখেই বিমানের যাত্রার মতোই। যাত্রীরা টিকেট পায় না অথচ সিট ফাঁকা নিয়ে বিমান আকাশে উড়ে যায়। ২১ খালি সিটে অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করার পিছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষা গ্রহনের স্বপ্ন দেশের সব মেধাবী শিক্ষার্থীর থাকে। সামান্য নম্বরের কারণে অনেক সময় পিছিয়ে যায়। তাই আসন শুণ্য থাকা স্বাপেক্ষে অপেক্ষমান তালিকা থেকে দেশের মেধাবীদের ভর্তি করা হোক। কারণ ২১টি সিট ফাঁকা থাকা মানে ২১ জন ভবিষ্যত চিকিৎসক হারাতে হবে জাতিকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. কারুল হাসান খান বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন শুণ্য থাকা কোন ভাবেই কাম্য নয়। যারা প্রথমে ভর্তির সুযোগ পায় এবং যারা অপেক্ষমান থাকে তারা সবাই মেধাবী। খুবই সামান্য ব্যবধানে তারা পিছিয়ে পড়ে। তাই যদি একটি আসনও ফাঁকা থাকে তাহলে অবশ্যই অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধাক্রম অণুসারে তাদের সুয়োগ দেয়া উচিত। আসন শুণ্য রাখার কোন ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই থাকতে পারে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, অপেক্ষমান তালিকায় শিক্ষার্থী থাকলেও বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে আসন শুণ্য রেখে গতকাল ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে আসন শুণ্য রয়েছে ২১টি। অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে ২৪ শিক্ষার্থী। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় আসন শুণ্য থাকার পরেও অপেক্ষমান তালিকায় থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীরা সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেনা।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশের সরকারি ৩৬ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য ৪ হাজার ৬৮ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। গত ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ও এসএসসি/সমমান, এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার প্রাপ্ত জিপিএ মিলে অর্জিত স্কোরের ভিত্তিতে (মেধা ও পছন্দ) তাদের নির্বাচিত করা হয়। ১৫ অক্টোবর মেডিকেল ভর্তির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ৪ হাজার ৬৮টি আসনের মধ্যে সাধারণ আসন ৩ হাজার ৯৬৬, মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে এবং নাতি-নাতনির জন্য ৮২ এবং পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্য ২০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়। একই সঙ্গে মেধাভিত্তিক ৫০০ জনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। আসন শূন্য হলে মেধা ও পছন্দ অনুযায়ী তারা ভর্তির সুযোগ পাবেন।

অপেক্ষমান তালিকা থেকে প্রথম মাইগ্রেশনে অধিদফতর ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে ডাকা হয়। প্রথম মাইগ্রেশন থেকে ভর্তি শেষ দ্বিতীয় মাইগ্রেশনে ১৫৬ শিক্ষার্থীকে অপেক্ষমান তালিকা থেকে ডাকা হয়। আর সর্বশেষ তৃতীয় মাইগ্রেশনে অপেক্ষমান তালিকা থেকে ৬৯ আসনের বিপরীতে ৬৯ জনকেই ডাকা হয়। আর এতে ভর্তি শেষে আসন ফাঁকা থাকে ২১টি। অথচ আগের দুটি মাইগ্রেশনে দেখা গেছে, অনেকগুলো আসন ফাঁকা ছিল।
অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, কর্মকর্তারা বিচক্ষণ হলে অপেক্ষমান তালিকায় রাখা ৫০০ জনের মধ্যে থাকা বাকী ২৪ জনকেও ডাকা হতো। তাহলে তৃতীয় মাইগ্রেশন শেষে ২১টি আসন ফাঁকা থাকতো না। পাশপাশি ২১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেত।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) প্রফেসর ডা. এ কে এম আহসান হাবীব বলেন, বিষয়টি আসলে আগে থেকে বিবেচনা করা উচিত ছিল। নীতিমালা অনুযায়ী তৃতীয় মাইগ্রেশনের পরে আর নতুন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ নেই। প্রতিবছরই এভাবে কিছু আসন ফাঁকা থাকে। গত বছর ৮ থেকে ১০টি আসন শুণ্য ছিল। তবে এবার এই পরিমানটা বেশি রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তিনবার কেবল মাইগ্রেশনের মাধ্যমে অন্য মেডিকেল কলেজে বদলি করা হবে। এরপর আর ভর্তি করার সুযোগ নেই। তবে নীতিমালা পরিবর্তন করে চাইলে বাকী ২১ আসনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি। সম্ভব হলে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ