বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১২ অপরাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ :
পরিচয় মুছে দিতে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে স্বামী

পরিচয় মুছে দিতে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে স্বামী

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ ওসমানীনগরের হাওরে পাওয়া মস্তক ও দেহ তরুণী সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজের। স্বামী মোজাম্মেলই রাতের আঁধারে তাকে খুন করে। এরপর মাথা থেকে দেহ বিচ্ছিন্ন করে হাওরে ফেলে দেয়। নির্মম ও লোমহর্ষক এ খুনের বর্ণনা নিজ মুখেই পুলিশকে জানিয়েছে ঘাতক স্বামী মোজাম্মেল মিয়া। এরপর সে আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছে। আলোচিত এ খুনের ঘটনায় হতবাক সবাই। এমন ঘটনা কোনো মানুষ ঘটাতে পারে সেটি কল্পনারও বাইরে। রাজমিস্ত্রি মোজাম্মেল মিয়া নিজের স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে খুন করার পর মাথা থেকে দেহ দ্বিখণ্ডিত করে।

ঘাতকের জবানবন্দির সূত্র ধরে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে নির্মম এ খুনের ঘটনা জানানো হয়েছে। সিলেট জেলা পুলিশ জানায়, দেহ-মস্তক পাওয়া ওই তরুণীর নাম সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজ। সে খ্রিস্টান থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো। তার স্বামী মোজাম্মেল মিয়া ওরফে মুজাম্মিল। সে ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ কলারাই গ্রামের মৃত ঝিলু মিয়ার ছেলে। সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজের বাড়ি বরিশালে। গত ২রা ডিসেম্বর রাতে ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের যুগিনীঘর হাওর থেকে মস্তকবিহীন এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ৯ই ডিসেম্বর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ওই তরুণীর ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

যে স্থান থেকে তরুণীর মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এর মাত্র দুইশ’ গজ দূর থেকে ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে গত ১৬ই ডিসেম্বর রাতে স্থানীয় বুরুঙ্গা এলাকা থেকে মোজাম্মেল মিয়া ওরফে মুজাম্মিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই তরুণীকে নিজের স্ত্রী সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজ হিসেবে শনাক্ত করে মোজাম্মেল। পুলিশকে মোজাম্মেল জানায়, সে গেল ৫-৬ বছর ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করছে। সন্ধ্যা ওরফে শাহনাজ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ছিল। ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। পরে মোজাম্মেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার শান্তিতেই চলছিল। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে শাহনাজের আচরণে পরিবর্তন দেখতে পায় সে। বাড়িতে তার মা, ভাই ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে শাহনাজের কলহ দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে শাহনাজকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে রেখে নিজের কাজ করতে থাকে মোজাম্মেল। দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এরই মধ্যে শাহনাজের পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারে সে। গত ৩০শে নভেম্বর বেলা ১টার দিকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল থেকে গোয়ালাবাজার যায় মোজাম্মেল ও শাহনাজ।

সেখান থেকে ওসমানীনগরের উনিশ মাইল এলাকার আগে নাটকিলা নামক স্থানে অটোরিকশা থেকে নেমে পড়ে তারা। ধানী জমির মধ্যদিয়ে তারা উনিশ মাইলে মোজাম্মেলের বড় খালা ফুলমতির বাড়িতে রওনা দেয়। এর মধ্যে রাত হয়ে গিয়েছিল। মোজাম্মেল ও শাহনাজ হাওরের মধ্যদিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। মোজাম্মেলের হাতে ছোট গ্যাস লাইটার ছিল। যাওয়ার সময় তারা খানিক দূরে টর্চলাইটের আলো দেখে থেমে যায়। হাওর দিয়ে যাওয়ার পথে শাহনাজ দৈহিক মিলন করতে চাইলে মোজাম্মেল ধমক দেয়। তখন শাহনাজ মোজাম্মেলকে গালিগালাজ করে। এবং বলে তার পরিচিত মোহনকে সে বিয়ে করবে। এতে ক্ষিপ্ত হয় মোজাম্মেল। পরে শাহনাজের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তার লাশ গুমের চিন্তা করে মোজাম্মেল। পরে শাহনাজের বোরকা, জামাকাপড় সব খুলে ফেলে এবং তার হাতব্যাগ, মোবাইল সবকিছু একত্র করে। এরপর নিজেও উলঙ্গ হয়ে হাওরের কাদাপানি গায়ে মেখে উনিশ মাইল বাজারে যায়। সেখানে ওয়ার্কশপের দোকানের বাইরে পড়ে থাকা চিকন স্টিলের পাত ও সিমেন্টের দুটি প্লাস্টারের টুকরো তুলে নেয়। প্লাস্টারের টুকরো দিয়ে স্টিলের পাত ঘষে ধারালো করতে থাকে মোজাম্মেল। মোজাম্মেল ফের হাওরে শাহনাজের লাশের কাছে ফিরে যায়। স্টিলের পাতটিকে চাকুর মতো ব্যবহার করে তার গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। এরপর তার নাক, কান, স্তন কেটে ছুড়ে ফেলে মোজাম্মেল। এ ছাড়া স্টিলের পাত দিয়ে শাহনাজের উরু ও পেটে একাধিক কোপ দেয় সে। এ ছাড়া তার ছিন্ন মাথা একটু দূরে কাদার মধ্যে চাপা দেয়। পরে সেখান থেকে সরে এসে পশ্চিম কালারাই গ্রামের দক্ষিণে নাটকিলা নদীতে ওই স্টিলের পাত ছুড়ে ফেলে। এ ছাড়া শাহনাজের কাপড়, মোবাইল সব ইটভাটার জ্বলন্ত চুল্লিতে ফেলে দেয়।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সে ১৬৪ ধারায় নিজের স্ত্রী শাহনাজ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। তিনি জানান, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশে আদালতে দ্রুত চার্জশিট প্রদান করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ