বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

সিলেটে ‘ফ্ল্যাট’ কিনে দিশাহারা ৮৪ মালিক

সিলেটে ‘ফ্ল্যাট’ কিনে দিশাহারা ৮৪ মালিক

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ সিলেট মাল্টিপ্ল্যান শাহজালাল সিটির হিজল টাওয়ারে ফ্ল্যাট কিনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ৮৪ মালিক। ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও  এখনো তারা ফ্ল্যাটের মালিকানার রেজিস্ট্রেশন পাননি। উল্টো তাদের হাউজিং খাতসহ নানা খাতে ব্যয় দেখিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধের নোটিশ দেয়া হয়েছে। টাওয়ারে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে ব্যাংকের সাইনবোর্ডও। এতে ক্ষুব্ধ ফ্ল্যাট মালিকরা সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিকার দাবি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মাল্টিপ্ল্যান শাহজালাল সিটি ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান কুনু।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থের বিনিময়ে ২০০৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ফ্ল্যাট ক্রয় করে আজো রেজিস্ট্রেশন না পেয়ে নানা বিড়ম্বনা ও হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন ফ্ল্যাট মালিকরা। মাল্টিপ্ল্যান শাহজালাল সিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুনসীফ আলী ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ব্যাংকের পে-অর্ডার ও চুক্তিনামার মাধ্যমে ৩৭ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৭৮ লাখ টাকায় একেকজন ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। ফ্ল্যাট ক্রয়ের সময় মাল্টিপ্ল্যান শাহজালাল সিটির কর্তৃপক্ষ বলেছিল দ্রুত রেজিস্ট্রেশন করে দেবেন। কিন্তু দিচ্ছি দেবো বলে বছরের পর বছর অতিক্রম করেও তিনি রেজিস্ট্রেশন করে দিচ্ছে না। ইতিমধ্যে সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। ফ্ল্যাট মালিকরা রেজিস্ট্রারির জন্য তাগিদ দিলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো তাদের ওপর বিভিন্নভাবে শাস্তির খড়গ প্রয়োগ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাট মালিকদের এক ধরনের জিম্মি করে রেখেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানির চেয়ারম্যানকে উকিল নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু উকিল নোটিশের যে জবাব দিয়েছেন তা পুরোটাই হাস্যকর। কর্তৃপক্ষ প্রতারণা করছে বুঝতে পেরে ফ্ল্যাট মালিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। মালিকদের ন্যায়সংগত আন্দোলনের কারণে বাধ্য হয়ে গত ২০১৮ সালের ৩০শে মার্চ কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে এক সভায় মিলিত হন। এ সভায় রেজিস্ট্রেশনে সময় ক্ষেপণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাট মালিকদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করে এবং ২০১৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে হিজল টাওয়ারের সকল ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে দেবেন বলে লিখিতভাবে প্রতিজ্ঞা করে। কিন্তু তিনি আজো কথা রাখেনি।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ২০১৮ সালের ১০ই এপ্রিল মাল্টিপ্ল্যান ঢাকা অফিস থেকে হঠাৎ করে একটি চিঠি আসে। ওই পত্রের মাধ্যমে হাউজিং ফি, সার্ভিস চার্জ ও সেলস পারমিশনের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে ফ্ল্যাট মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়। এমন চিঠি পেয়ে মালিকরা হতবাক হয়ে যান। কারণ সেলস পারমিশন ফি তাদেরকে দেয়ার কথা নয়। এটি কোম্পানি বহন করবে এমনটি জেনেই সবাই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। ফ্ল্যাট মালিকরা তাৎক্ষণিক এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ রকম কূটকৌশলের কারণে ২০১৯ সালের ২৪শে নভেম্বর হিজল ভবনের ওনার্সরা কোম্পানির চেয়ারম্যান বরাবরে একটি উকিল নোটিশ পাঠান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১১ই জানুয়ারি আবারো ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য মুনসীফ আলী চিঠি পাঠান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মাল্টিপ্ল্যান সিটির ফ্ল্যাট মালিকদের অধিকাংশই প্রবাসী। প্রধানমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা সকলেই বারবার প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীরা কীভাবে বিনিয়োগ করবেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। ফ্ল্যাট মালিকরা এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ফ্ল্যাট মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ