সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ : :
২৫ জানুয়ারি : আজকের দিনে এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ জানুয়ারি সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট কমপ্লেক্স উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণ-বিচারবহির্ভূত হত্যা বেশি ঘটে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং : কৃষিমন্ত্রী স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত ৪ ফেব্রুয়ারির পর : শিক্ষামন্ত্রী শুধু নারীই নয় টাকা দিলেই আর যা যা মেলে কারাগারে ৭শ কোটি টাকার কাজ ১শ কোটিতে করে দেবেন মেয়র আরিফ! দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে বাধা কাটল মার্কিন নির্বাচনের চেয়েও বেশি ‘সৌহার্দ্য’ চসিক নির্বাচনে : সিইসি কাউকে জোর করে টিকা দেয়া হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনায় আরও ২০ মৃত্যু, শনাক্ত ৪৭৩ বন্দির নারীসঙ্গ : কাশিমপুরের জেল সুপার ও জেলার প্রত্যাহার করোনার অ্যান্টিবডি পরীক্ষার অনুমতি দশম-দ্বাদশে নিয়মিত ক্লাস, বাকিদের সপ্তাহে এক দিন: শিক্ষামন্ত্রী খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠদানের নতুন নিয়ম অফিসে হাজতির সঙ্গে সুন্দরী নারীর ৪৫ মিনিট ইত্যাদি এবার পতেঙ্গায় পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসির ফল প্রকাশের বিল পাস সংসদে
এমসি কলেজে ঝরাপাতার বুকে সবুজপাতার গল্প

এমসি কলেজে ঝরাপাতার বুকে সবুজপাতার গল্প

ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে প্রকৃতির বুকে। লেগেছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চিরসবুজ বিদ্যাপীঠ মুরারিচাঁদ কলেজ ক্যাম্পাসেও। ঝরেগেছে গাছের সব পুরোনো পাতা। পথিকের পথচলায় শোনা যায় ঝরাপাতার মরমর শব্দ। হাটতে হাটতে মনে হয় রাস্তার দুপাশে ঝরাপাতা দিয়ে কে যেন গালিচা বিছিয়ে রেখেছে।

কখনো বা পুরো রাস্তা জুড়েই এমন গালিচা। এ যেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের খেলা। গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে নতুন কচিকাঁচা পাতা। পুরোনো পাতা বর্ণালী রঙে সেজেগুজে জায়গা করে নিচ্ছে গাছের নিচে। এ যেন তার আপন ঠিকানা। আপন ভুবন। শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ মুরারিচাঁদ কলেজ যা বহুলপরিচিত এমসি কলেজ নামে।

এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে ঢুকতেই চোখে পড়ে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নান্দনিক প্রতিকৃতি। দুপাশে ছোট ছোট ফুলের চারাগাছ। বিভিন্নধরনের ফুল ফুটে আছে। পাশেই চা বাগান। চা বাগানের গাছ গুলিতেও এসেছে নতুন পাতা। পুরাতন পাতার ভেতর উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কলা ভবনের সামনের গাছ গুলিতেও সবুজের সমারোহ আসতে শুরু করেছে। রবীন্দ্র প্রতিকৃতির পাদদেশে নানান রঙের পাতা পড়ে রয়। ঝরাপাতা রবীন্দ্রপ্রেমের গল্প শোনায় অবিরাম। পাখিগুলি গাছের ডালে বসে মধুর কণ্ঠে গান গায়। ক্লাসের ফাঁকে সবুজ ঘাসের ওপর বসে প্রাণবন্ত আড্ডায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনার পাশাপাশি চলছে গান। নাটক। আবৃত্তি সহ নানাবিধ কার্যক্রম। জীবনের গল্প আর গল্পের জীবন নিয়ে চলে সময়পার।

ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে সিলেটের বুকে অন্যতম আয়োজন ‘মোহনা বসন্ত উৎসব’ সেটি মুরারিচাঁদ ক্যাম্পাসে মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন করে থাকে প্রতিবছর। এতে হাজারো দর্শকের সমাগম ঘটে। শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে দূরদূরান্ত থেকে মুরারিচাঁদ ক্যাম্পাসে আসেন অনেকেই।

পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠন তাদের কার্যক্রম মঞ্চস্থ করে থাকে৷ থিয়েটার মুরারিচাঁদ। মুরারিচাঁদ কবিতা পরিষদ, রোভার স্কাউট সহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত থাকেন। পুকুরপাড়ের দিকে কদিন আগেও তাকালে মনে হয়েছে কি যেন নেই। নীরবে কবির বুকে জমেছে এক পৃথিবী হাহাকার। জমেছে নির্জনতার গল্প। পদ্মপুকুরের বুকে নেই একটি শ্বেতপদ্ম। বিশাল পুকুর যেন হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসে সময় করছে পার। আর কদিন পরেই আসবে শ্বেতপদ্ম। পুকুরের যৌবন ফিরে আসবে ফের।

এখন নেই কেবল সবুজ। বসন্তের ছোঁয়ায় ধূলিকণা উড়ে যায়। উড়ে যায় ঝরাপাতা। তবে দেখা যায় পুকুরপাড়ের ঘাসে এসেছে নতুনরূপ। ধূসর ঘাসের বুকে ভাসছে সবুজ রঙ। পুকুরপাড়ে বসে ছাত্রছাত্রীদের গল্পের আসরে আসে সজীবতা। ঋদ্ধ করে মন। গানে গানে শোনায় জীবনের গল্প। ঋতুরাজ বসন্ত আহবান করে যায় নতুনের।

রাঙিয়ে দেয় প্রতিটি প্রাণ। ক্যাম্পাসের গগণশিরিশ গাছগুলি উচ্চ করে তার শির। আকাশের বুকে হেসে উঠে সবুজপালক নিয়ে। বোটানিক্যাল গার্ডেনে ফিরে আসা শুরু করেছে পূর্বের রঙ। সবুজপাতা আর সবুজের বুকে লুকিয়ে লুকিয়ে জেগে উঠছে লাল লাল ফুল। রসায়ন বিভাগের বাগানের গাছ গুলিও জেগে উঠতে শুরু করেছে।

জেগে উঠছে তার হারানো রূপ সৌন্দর্য নিয়ে। সেই সাথে জেগে উঠেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নান্দনিক বাগানে থাকা ফুলের গাছ গুলি। ফুল ফুটেছে। সেখানে সকলেরই অপলক দৃষ্টি। একাডেমিক কাম পরীক্ষা ভবনের পেছনের টিলাগুলি ছিল মনমরা। মরভূমি। অথচ এখন ফিরে আসতে শুরু করেছে তার পূর্বের চেহারায়। টিলার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলিতেও এসেছে পরিবর্তন। টিলাগুলিতে দেখা গেছে ঘাস নেই। মরে গেছে সব। ধূসর হয়ে গেছে চেহারা। উড়ছে বালুকণা। তবে বসন্তের প্রথম বৃষ্টির ছোঁয়ায় এসেছে সজীবতা।

প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঘাস আর গাছ। ধূলিকণা উড়ে যায় না। অল্প অল্প ঝরাপাতা উড়ে যাচ্ছে নিজের মত করে৷ উড়ে যাচ্ছে শৈশবে উড়ানো প্লেনের মত৷ কখনো বা পড়ছে ছড়ার বুকে। নৌকার মত ভাসতে ভাসতে ভিড়েছে জলের গভীরে। প্রকৃতি ফিরে পেতে শুরু করেছে তার হারানো পূর্বের রূপ আর সবুজ সৌন্দর্য।

আর এমসি কলেজেও আসতে শুরু করেছে অপার সৌন্দর্য। যা উপভোগ করে থাকেন ছাত্রছাত্রী সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা প্রকৃতি প্রেমীরা। প্রকৃতির ছায়ায় ঘেরা, ঝরাপাতার বুকে সবুজপাতার গল্পের ক্যাম্পাসে আপনিও আমন্ত্রিত।

লেখকঃ ইমরান ইমন





© All rights reserved © 2018 dailysylhetmedia
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ