শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২০, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

করোনা জয় করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

করোনা জয় করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী

সিলেট মিডিয়া ডেস্ক: করোনাভাইরাসকে জয় করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ ও দলের সব সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য যেসব কাজ করে যাচ্ছেন, তা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের তো অনেক রাজনৈতিক দল আছে। সমালোচনা অনেকেই করে যাচ্ছেন। এমনকি বহু এনজিও, অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে। ঠিক বর্তমানে কতজনকে চোখে পড়ে যারা কাজ করছে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে? সেটাই আমার প্রশ্ন।’

সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে সংসদ নেতা বলেন, ‘ঘরে বসে সমালোচনা, বাজেটের খুঁত ধরা, কাজের খুঁত ধরা সেগুলো অনেকেই ধরতে পারেন, এটা ঠিক। কিন্তু মাঠে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করা, এই কাজগুলো কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক যারা, আমরাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে দেশের মানুষের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ আছে যারা হয় তো হাত পাততে পারছে না, তাদের কোনো আয় নেই। গোপনে তাদের খাবার জিনিস সরবরাহ করা হয়। এমনকি ঢাকা শহরে প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে, বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের যে কমিটিগুলো, তারা কিন্তু সেভাবে সাহায্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। যারা নিচ্ছে, তারা কিন্তু চায় না তাদের নামটা প্রচার হোক। আমরাও চাই না। কারণ এটা তাদের একটু আত্মাভিমানে লাগে। কিন্তু তারা যেন কষ্ট না পায়, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আছে। সরকারের পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে।’

করোনাভাইরাস সংকটে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য আমরা দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। পাশাপাশি আরও দুই হাজার ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া হেলথ টেকনোলোজিস্ট, কার্ডিওগ্রাফার এবং ল্যাব অ্যাটেনডেন্টের তিন হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা সেগুলোও দেব।’

‘অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘টেস্ট করার জন্য খুব ভালো টেকনিক্যাল লোক দরকার হয়। এই লোক পাওয়া কঠিন। কারণ বাড়িতে গিয়ে তারা নমুনা সংগ্রহ করছে, তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় পাড়ার লোক ঢুকতে দেবে না, বাড়িতে যেতে দেবে না, তারা নমুনা নিতে দেবে না। এই ধরনের প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এমনকি যারা নমুনা সংগ্রহকারী, তারা এক সময় ওই সব পোশাক খুলে ব্যাগে নিয়ে রোগীর বাড়ি ঢোকার মুখে ওগুলো পরে দরজায় নক করেছে এবং তাদের নমুনা সংগ্রহ করেছে। অনেক সময় সাধারণ মানুষ তাদের আঘাতও করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এই খবর তো অনেকেই রাখেন না। আমাদের বিরোধী দল অনেক কথা বলেছে। তারা কিন্তু এই খবরটা কোনোদিন রাখে না। হয়তো আজকেই প্রথম শুনলেন। যে এইরকম ঘটনাও ঘটেছে বাংলাদেশে, যে নমুনা সংগ্রহকারীদের যেতে দেয় না। তাই যারা এই দুঃসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের সকলকেই আমাদের দেখতে হবে এবং তাদেরকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। সেই ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

‘ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের থাকা-খাওয়াসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে’ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘সেখানে খরচ তো হবেই। তবে এটা সত্য যে, বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে পঁচাত্তরের পর যারা রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালোটাকা শিখিয়েছে, ঋণখেলাপি শিখিয়েছে, তারা সমাজকে কলুষিত করে দিয়ে গেছে।’

‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতিবাজদের ধরছে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সমাপনী ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ‘করোনার কারণে সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। অতীতেও কখনও এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। করোনার যেন নিজস্ব একটা পদ্ধতি আছে। প্রথমে একজন আক্রান্ত হচ্ছে, এরপর দু’জন, এরপর আরও ১০, এভাবে ছাড়াতে থাকে। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকবে না। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ জুলাই মাস পর্যন্ত বাড়তে থাকবে। এরপর আস্তে আস্তে কমে যাবে। সেটাই হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা শুনলেই মানুষের মৃত্যু ভয় পেয়ে বসে। কিন্তু ভয়কে জয় করতে হবে। মৃত্যু তো আছেই, মৃত্যু অবধারিত।’

এ সময় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিতার লাইন পাঠ করে শোনান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে? চিরস্থির কবে নীর হায়রে জীবন’- এটা তো কবি বলে গেছেন। তাই বলে মরার আগে মরব না। মরণকে জয় করতে হবে। করোনা জয় করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, ‘যারা করোনা আক্রান্ত তাদেরও মনে সাহস রাখতে হবে। আমি যতদূর পারি সবার সঙ্গে একটু কথা বলি, সাহস জোগাই। খোঁজ নেই চিকিৎসা ঠিকমতো পাচ্ছে কি না? সেগুলো আমরা নিচ্ছি। যারা করোনা রোগে আক্রান্ত আমরা চাই, সবাই সুস্থ হয়ে আসুন। আমাদের সুস্থতার হার অনেক বেশি। অবশ্য যাদের অন্যান্য শারীরিক অসুবিধা আছে, তারা বেশি মৃত্যুবরণ করছেন। তবে কারও মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। কেউ মৃত্যুবরণ করুক আমরা সেটা চাই না। আমরা চাই সবাই সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক।’

এসময় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যাক একটা জিনিস ভালো হয়েছে। এই সংসদ অধিবেশনে যারা আসছেন তাদের সকলের করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এখন একটু আশ্বস্ত হয়ে চলতে পারবেন। তাছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও সাবেক হুইপ করোনা জয় করে ফিরে এসেছেন। করোনা জয় করার জন্য মনে সাহস রাখতে হবে। বস্ত্র-পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত এক বছর ধরে এ পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে সরকারের পক্ষ থেকে বেতন দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) দিতে পারছে না। সরকারের পক্ষ থেকে এভাবে বছরের পর বছর বেতন দিয়ে যেতে হবে। এ পাটকলগুলো সবচেয়ে পুরনো। ৫০ ও ৬০ এর দশকে এগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। এগুলো আর লাভজনক করা সম্ভব না। বিশ্বে পাটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা পাটের জিন (বংশ) আবিষ্কার করেছি। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের সম্ভাবনা রয়েছে।’

সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এ বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এ পাটকলগুলোকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে হবে। আমরা সেটা করব। শ্রমিকদের পাওনা ৫ হাজার কোটি টাকা আমরা পরিশোধ করব। সব টাকা তাদের হাতে দেয়া হবে না। দিলে খরচ হয়ে যাবে। অর্ধেক টাকা আমরা তাদের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র করে দেব। এতে তারা প্রতিদিনের মজুরির চেয়ে বেশি পাবে। এ পাটকলগুলো আধুনিক করে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এদের যারা আগ্রহী হবে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যাবে।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ