মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন

ব্রাজিলিয়ান মার্তাই অধিনায়ক সাবিনার অনুপ্রেরণা

ব্রাজিলিয়ান মার্তাই অধিনায়ক সাবিনার অনুপ্রেরণা

সিলেট মিডিয়া ডেস্ক: সাবিনা খাতুন। মোটা দাগে লিখে দেয়া যায় তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ, বড় তারকা। ২০০৯ সালে ক্যারিয়ার শুরু করা সাতক্ষীরার এ যুবতি নিজের নামে সঙ্গে লাগিয়ে ফেলেছেন গোলমেশিন শব্দটি।

বাংলাদেশের প্রথম যে তিনজন নারী বিদেশের লিগে খেলতে গিয়েছিলেন তাদের অন্যতম স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুন। ২০১৫ সালে মালদ্বীপে খেলতে গিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের পরাশক্তি ভারতের ঘরোয়া লিগ খেলেছেন সেথু এফসির হয়ে। তিনি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক। দেশের শতশত নারী ফুটবলারের আদর্শ।

দেশের নারী ফুটবলের এ সুপারস্টার নিজেকে আরও ওপরে তুলতে চান, হতে চান ব্রাজিলিয়ান নারী ফুটবলার মার্তার মতো। আর খেলা ছেড়ে অন্য কিছু না করে লেগে থাকতে চার ফুটবলেই। খেলা থেকে অবসর নিয়ে পেশা হিসেবে নেবেন কোচিংকে। ইতিমধ্যে তিনি এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স সম্পন্ন করেছেন।

বাংলাদেশের গোলমেশিন সাবিনা খাতুনের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছে ফিফা। সেই সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, খেলোয়াড় হওয়া, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেছেন এ গোলমেশিন। ফিফা জানিয়েছে, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার মার্তাই সাবিনার অনুপ্রেরণার উৎস।

২০১০ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হয় সাবিনার। বাংলাদেশে হওয়া এই গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। এটিকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক।

সাবিনা বলেন, ‘২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমস দিয়ে আমার আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল। ব্রোঞ্জজয়ী বাংলাদেশ দলের একজন সদস্য ছিলাম। সেটা ছিল আমার জীবনের একটা স্মরণীয় টুর্নামেন্ট। সে বছরই এসএ গেমসে প্রথম নারী ফুটবল অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল। আমরা চার ম্যাচ খেলে দুটি জিতেছিলাম। সেটা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমরা ক্যারিয়ারের একটি মাইলফলক।’

একইবছর ডিসেম্বর সাফ গেমসে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ম্যাচেও গোল করেছিলেন ১৬ বছর বয়সী সাবিনা। সেই গোলের ব্যাপারে তার স্মৃতিচারণ, ‘নিশ্চিত নই, আমি আন্তর্জাতিক গোল করা সবচেয়ে কমবয়সী বাংলাদেশি নারী ফুটবলার কি না। কারণ ঐ সময় দলের সবার বয়সই কম ছিল। তবে সেই টুর্নামেন্টে গোল করতে পারা দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল।’

২০১৬ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই আসরে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন সাবিনা। দল হিসেবে এটিকেই এখনও পর্যন্ত নিজেদের সেরা অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক সাবিনা, ‘আমরা রানার্সআপ হয়েছিলাম। সেটা বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের সর্বোচ্চ অর্জন। আমি এখন সাফ জিততে চাই, এসএ গেমসসহ অন্য বড় টুর্নামেন্ট জিততে চাই। জিততে পারলে আমার ক্যারিয়ারে তা মাইলফলক হয়ে থাকবে।’

ভবিষ্যতের জন্য কী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন? বাংলাদেশের নারী ফুটবল নিয়ে আপনার ভাবনা কী? এমন প্রশ্নের জবাবে সাবিনা বলেন, ‘খেলা থেকে অবসরের পর কোচিংয়ে মনোনিবেশ করতে চাই। ইতোমধ্যে আমি এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স সম্পন্ন করেছি। বাংলাদেশ দল নিয়ে আমি মেয়েদের খেলায় ব্যস্ত থাকার পরামর্শ দেবো। যা আমাদের সফল করে তুলবে। তাই প্রতি বছর লিগ আয়োজন করা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নারীদের লিগ অব্যাহত রাখবে।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ