বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩১ অপরাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ :
ইয়াযিদ-পুত্রের দৃষ্টিতে ইয়াযিদ-মুফতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী

ইয়াযিদ-পুত্রের দৃষ্টিতে ইয়াযিদ-মুফতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী

ডেইলি সিলেট মিডিয়া ডেস্কঃ ইয়াযিদের মৃত্যুর পর তার মনোনীত খলীফা তার ছেলে মুআবিয়া বিন ইয়াযীদ। তিনি ৬৪ হিজরীতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু ৪০ দিন কোন কোন বর্ণনামতে ৫ মাস পর তিনি ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের সময় তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা থেকে প্রমাণিত হয় ইয়াযিদের শাষন ছিল মুসলিম জাহানের জন্য এক কলংকের অধ্যায় এবং ইয়াযিদ পন্থীরা নিকৃষ্ট ফাসিক। ইয়াযিদ সমর্থকদের সতর্কতার জন্য আমরা মুআবিয়া বিন ইয়াযিদ বিন মুআবিয়ার বক্তব্যের কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরছি।

-এরপর খেলাফত আমার পিতা ইয়াযিদের হাতে আসল। তিনিও তোমাদের কার্যাবলীকে সাজিয়ে দিলেন। তিনি তার পাপের ও অনর্থক ব্যয়ের কারণে খেলাফতের মোটেও উপযুক্ত ছিলেন না। তিনি জৈবিক চাহিদায় ডুবে গিয়েছিলেন। পাপের দায়-দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আল্লাহর হুকুমের তোয়াক্কা করতেন না। যে কেউ আওলাদে রাসূলের সম্মান করত, তিনি তার পিছু লেগে যেতেন। তিনি শেষ কর্মে উপনীত হলেন। মৃত্য এসে তাকে নিয়ে গেল। তার কর্ম নিয়ে তিনি জগত হতে বিদায় নিয়েছেন। কবরের বন্ধু হয়ে গেছেন। বদ আমলে ধরা পড়েছেন। নিজেই নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন। তিনি যা করেছেন তার প্রতিফল পেয়ে গেছেন। অতঃপর তিনি এমন সময়েই লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলেন যখন তাওবা ও অনুতাপের সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। (হায়াওয়াতুল হায়াওয়ান)
বিশেষ দ্রষ্টব্য : উপরের বক্তব্যটি আল্লামা ইমাম কামাল দমিরী (৭৫০-৮০৮)-এর হায়াওয়াতুল হায়াওয়ান কিতাব থেকে নেয়া হয়েছে। আরবি ভাষায় লিখিত উক্ত কিতাবটির উর্দু অনুবাদ শম্স পাবলিকেশন দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। অনুবাদকদের মধ্যে একজন হলেন মাওলানা আব্বাস ফতেহপুরী (ফাযিলে দেওবন্দ)। তিনি কিতাবটির শুরুতে ইমাম দমিরীর জীবনী অংশে লিখেছেন আনোওয়ার শাহ কাশমিরী (র.) পাঠদানের সময় উক্ত কিতাবের হাওয়ালা দিতেন। তাছাড়া আরো কয়েকজন দেওবন্দী প্রখ্যাত আলিমের নাম উল্লেখ করেছেন যারা উক্ত কিতাব থেকে উপকৃত হয়েছেন। তারা হলেন- (১) মাওলানা ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী সাহেব (২) মুফতি শফী সাহেব (৩) মেহদী হাসান সাহেব (৪) মাওলানা ইদ্রিস কান্দুলবী সাহেব (৫) মাওলানা ইউসুফ বিননূরী সাহেব (৬) কারী তৈঈব সাহেব (৭) মাওলানা মাহমুদুল হাসান গঙ্গুহী (৮) মনজুর নোমানী প্রমূখ।
মোটকথা, দেওবন্দী আকাবীরদের কাছে উক্ত কিতাবটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

পরিতাপের বিষয় যারা নবী-রাসূলের সমালোচনা করে, সাহাবায়ে কিরামের আদালতকে অস্বীকার করে, আউলিয়ায়ে কিরামেরও সমালোচনা করে তারাতো ইয়াযিদের পক্ষে কথা বলছেই কিন্তু তাদের সাথে সুর মিলিয়ে সুন্নী নামধারী কিছু মানুষও ইয়াযিদকে নির্দোষ সাজানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত।

[লেখাটি লেখকের ‘আহলে বাইআতগনই হচ্ছেন তরিকত-পন্থীদের শাইখুশ শুয়ুখ’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত ]


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ