বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ :
বাণী চিরন্তনী জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানীদের প্রতি মন্ত্রী ইমরানের কঠোর বার্তা অবহেলায় মৃত্যু : পার্কভিউ হাসপাতালে তরুণীর মরদেহ আইসিইউতে ঢুকিয়ে ‘নাটক’! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিং বৃহস্পতিবার এবার হাজী সেলিমের ‘অবৈধ সম্পদের’ সন্ধানে নেমেছে দুদক বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আহাদের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামীলীগের শোক বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আহাদের মৃত্যুতে মহানগর আওয়ামীলীগের শোক বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে জেলা বিএনপির শোক করোনায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত প্রায় ১৫’শ সিলেটে হবে বিদেশগামীদের জন্য আলাদা করোনা পরীক্ষাগার
শাবির ল্যাবে সিলেটবাসীর আস্থা

শাবির ল্যাবে সিলেটবাসীর আস্থা

ডেইলি সিলেট মিডিয়া ডেস্কঃ করোনার সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন সবাই। সেটাই স্বাভাবিক। এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মনের ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ। আতঙ্ক, অহেতুক রাগ বা অবসাদের লক্ষণও দেখা দিতে পারে। এই আতঙ্কময় সময়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) স্থাপিত করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব সিলেট অঞ্চলের মানুষের কাছে আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সংক্রমণ শনাক্তের জন্য চলতি বছরের ৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাস সনাক্তকরণের জন্য আরটি-পিসিআর ল্যাব চালুর অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে শাবির নিজস্ব অর্থায়নে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে শিক্ষাভবন ‘ই’ এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২২৫ নম্বর কক্ষে এ ল্যাব চালু করা হয়। এরপর ১৮ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শাবির এই ল্যাব উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে সংগ্রহকৃত নমুনা পরীক্ষা হতো শাবির ল্যাবে। তবে বর্তমানে সিলেট বিভাগের চার জেলা হতে গড়ে ২৮২ থেকে ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে প্রতিদিন শাবির এই করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে। কিন্তু আগের চাইতে নমুনা বৃদ্ধি পাওয়ায় টেস্টের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ল্যাবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের নমুনা জট সৃষ্টি হয়নি। ফলাফল বিশ্লেষণের পরপরই টেস্ট রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহে দ্রুত প্রেরণ করা হয়।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাবির করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে মোট ২৩ হাজার ৯২৯ জন সন্দেহজনক ব্যক্তির কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪ হাজার ৮৮০ জন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া ল্যাবে একদিনে ৪৬৮টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়েছে যা একদিনের হিসেবে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি।

শাবির করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবের তত্ত্বাবধান করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ। বর্তমানে এই বিভাগের ৭ জন শিক্ষক, ১ জন পিএইচডি গবেষক ২০ জন শিক্ষার্থী এবং ২ জন ল্যাব এসিস্টেন্টসহ ৩০ জনের একটি টিম প্রতিদিন দুই শিফটে কাজ করছেন এই ল্যাবে। এই টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টিম লিডার জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক প্রধান। এছাড়া ল্যাবে করোনা শনাক্তকরণে যারা কাজ করছেন তাদের থাকা, খাওয়া, পরিবহনসহ স্বাস্থ্যগত সব নিরাপত্তার বিষয়গুলোর দেখভাল করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শাবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেবল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব নয়, দেশের অন্যান্য করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবগুলোতে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও সিলেটে স্থাপিত অন্যান্য ল্যাবগুলোতে পরিদর্শক হিসেবে কাজ করছেন এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক জি এম নূরনবী আজাদ জুয়েল বলেন, দেশে যখন করোনা মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করার কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে শাবিতে করোনা সনাক্তকরণ ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০ মে থেকে করোনা সনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়।

শাবির ওই শিক্ষক আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার নমুনা আমাদের কাছে আসে এবং আমরা প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ নমুনা পরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ে রিপোর্ট প্রদান করি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরই সিলেটবাসীর কাছে আশা-ভরসা এবং আস্থার জায়গা। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে একটু হলেও দেশের সেবা করতে পারা এবং সিলেটবাসীর পাশে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়াতে পারাটা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হাম্মাদুল হক বলেন, করোনা শনাক্তের তথ্যের উপর নির্ভর করে আমরা ইতিমধ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। বর্তমানে করোনা শনাক্তকরণের কাজে ব্যবহৃত হলেও করোনা পরবর্তীকালে এই ল্যাবে অন্যান্য ক্ষতিকারক ও সংক্রামক রোগজীবাণু এবং ভাইরাস যেমন আমাদের দেশের মৌসুমী রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস শনাক্তকরণ এবং এগুলো নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করা সম্ভব।

সার্বিক বিষয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড শামসুল হক প্রধান বলেন, মার্চ মাসের শেষের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আমার কাছে ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে জানতে চান। তখন আমি ল্যাবে কি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন স্যারকে অবগত করি। যদিও আমাদের বিভাগে যে আরটিপিসিআর যন্ত্রটি ছিল সেটি সরকার প্রদত্ত করোনা শনাক্তকরণ কিটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। অধিকন্তু, পূর্বের যন্ত্রে একসাথে মাত্র ৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করা যেত, যা যথেষ্ট ছিল না। তাই আমরা নতুন করে আরও একটি আরটিপিসিআর মেশিন ক্রয় করি। এ জন্য প্রথম দিকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এরপর আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সেন্টার ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (ইউএসএ) এর বায়োসেইফটি-২ নীতিমালা অনুসরণ করে পিসিআর ল্যাবটিতে কাজ শুরু করি।

তিনি বলেন, প্রথম থেকেই সিলেট জেলার এবং পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বর্তমানে পুরো সিলেট বিভাগের নমুনা শনাক্তকরণের কাজ করছি। নমুনা পরীক্ষার এই সকাল-সন্ধ্যা কার্যক্রম কোনো রকম ছুটি ছাড়াই আজ পর্যন্ত চলছে। এমনকি ঈদের দিনেও আমরা করোনা শনাক্তকরণে কাজ করেছি। উদ্বোধন পরবর্তী ল্যাবের কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি। এছাড়া চালু হওয়ার পর ল্যাবের কোনো কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি, যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক শামসুল হক প্রধান আরো বলেন, আমাদের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের দক্ষ গ্রাজুয়েটরা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুরু থেকেই কাজ করে আসছেন। এছাড়াও সিলেট সিএমএইচ, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন, সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে জীব ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে।

সুত্রঃ সিলেটভিউ২৪ডটকম

 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Bditfactory.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ