বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ : :
জালালাবাদ এসোসিয়েশন ফ্রান্স শাখার ইফতার বিতরণ মরহুমা হাজী আফতারা বিবি চৌধুরী ট্রাষ্টের ব্রিটিশ সলিসিটর প্রিন্স সাদিক চৌধুরীর পক্ষ থেকে ইফতার বিতরণ সিলেটে প্রতিবন্ধী পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন ছাত্রলীগ নেতা ঝুটন প্রবাসীরা দেশের মাটি ও মানুষের কথা সব সময় মনে রাখেন : নাদেল গরীব ও দুস্থদের মাঝে ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট মহানগরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস মিয়ার মৃত্যুতে আ.ন.ম. ওহিদ কনা মিয়ার শোক শ্রমজীবী মানুষের মাঝে জেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিলেটবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিমেবি’র উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী মন-তরী ফাউন্ডেশন এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন নবীগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীর আত্মহত্যা, শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করেছে বলে অভিযোগ : স্বামী আটক ‘প্রবাসে পশ্চিম বিশ্বনাথ ইউকে’র আত্মপ্রকাশ শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার কোয়াড নিয়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলেছে চীন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী শতভাগ উৎসব ভাতার দাবীতে শিক্ষক ফোরামের স্মারকলিপি প্রদান কামরান পরিবারের ঈদ সামগ্রী বিতরণ গ্রেটার সিলেট ইউ.কে’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবরের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা উৎমা কোয়ারী ইজারা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি গোয়াইনঘাট উপজেলাবাসীকে চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাবের ঈদ শুভেচ্ছা দেশবাসীকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য আলী হোসেন আলম’র ঈদ শুভেচ্ছা
ধানের দাম কম, কৃষকের মাথায় হাত !

ধানের দাম কম, কৃষকের মাথায় হাত !

শান্ত কুমার তালুকদার, শাল্লা প্রতিনিধি :: এবারের ফসলে প্রকৃতির থাবা ছিল অনেকটাই ভিন্ন। প্রথম ধাপে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ২য় পর্যায়ে গোড়া পঁচা, শীষকাটা লেদা পোকার আক্রমণ ও ৩য় ধাপে গরম বাতাসে পুড়ে গেছে ধান। চোখের সামনে নিমিষেই সবুজ প্রান্তর বিবর্ণ রঙে রূপ নিয়েছে। এমন ঘটনা আগে কখনো এত ভয়াবহ হয়নি। মাথায় হাত পড়েছে কৃষকের। এদিকে কৃষি বিভাগের হিসাবে হাওরে ২০ ভাগের বেশি ধান নষ্ট হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকরা তা নকচ করেছে বরাবর।

সকল ভয়কে উপেক্ষা করে ধান কাটা শেষ করে কৃষকেরা ঘরে ধান তুলেছেন। আর এই নতুন ধানগুলো দেশের বিভিন্ন মোকামগুলোতে যাচ্ছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে ধানের দাম দ্রুত কমে যাওয়ায় হাওরপাড়ের কৃষকরা দশ্চিন্তায় ভুগছেন।
মাথায় ঋনের বোঝা, সামনে ঈদ, ভয়াবহ করোনা মহামারি সকল আয়রোজগারও বন্ধ। তাই ধান বিক্রিই কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের উপায়। কিন্তু ধানের দাম এমন কম থাকলে কৃষক তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারবে না। সরকার ধান সংগ্রহের মূল্য ঠিক করে দিয়েছেন। আর এখন তা অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে। দেখা গেল শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের কৃষক দেবাশিষ রায় ধান বিক্রি করতে না পেরে মন খারাপ করে বসে আছেন। কথা হয় তাঁর সাথে। তিনি জানান ৭শ’ টাকা মণ ধরে ১শ’ মণ মোটা শুকনো ধান বিক্রি করেছেন ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীর (বেপারি) কাছে। হঠাৎ ধানের দাম কমার কথা শুনে ধান বিক্রি বন্ধ করে দেন তিনি। পরে সেই ধান ৫শ’ ৪০ টাকা ধরে বিক্রি করেন দেবাশিষ।

উপজেলায় ধানের উৎপাদন বেশি। যার ফলে এখানকার ভ্রাম্যমান ধান ব্যবসায়ীরা নৌপথে ভৈরবের সবচেয়ে বড় মোকামগুলোতে নিয়ে যান। প্রতি নৌকায় ২০/২৫ হাজার মণ ধান নিয়ে যাওয়া হয়।
ধান ব্যবসায়ী বিল্লাল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ধানের বাজার কমে যাওয়ায় কৃষকরা ধান বিক্রি করতে আগ্রহী কম। আগে দু’দিনে নৌকা বোঝাই করতে পারতাম। আর এখন ১০দিনেও নৌকা বোঝাই হয় না। তাই আমরাও ধান কিনতে বিপাকে পড়েছি। দামপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ মিয়া জানান, সরকার ধানের দর ১ হাজার ৮০ টাকা মণ নির্ধারণ করলেও তাদের বেচতে হচ্ছে ৫শ’ ৫০ থেকে ৬শ’ টাকায়।

এসব ক্ষতি কাটিয়েও হাওরে বোরোর ফলন ভাল হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি ও শ্রমিক সংকটের মধ্য দিয়েও সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন হাওরপাড়ের কৃষক। তবে কষ্টের ঘামে ফলানো ধানের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না কৃষক। সরকার এবছর ১ হাজার ৮০ টাকা মণ দরে বোরো ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে সংগ্রহ করা হবে ওই ধান। ২৬ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শাল্লায় এই কার্যক্রম শুরু হয়নি। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি আর ঋণের টাকা পরিশোধের দায়ে পাইকারি বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরুল হক বলেছেন, হাওরে এখনো ধান কাটা চলছে। কৃষকেরা মাঠে। তাঁদের সুবিধার্থে ক্রয় কার্যক্রম কিছুদিন পেছানো হয়েছে। আশা করছেন সপ্তাহ খানেক মধ্যে কৃষক নির্বাচনের কাজ শেষ হবে। তিনি আরো বলেন, তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। এখানে কোন স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি করার সুযোগ নাই। যারা লটারির মাধ্যমে সিলেক্ট হবে তারাই ধান দিতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১লাখ ৭৯৭ মেট্রিক টন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাওরে কাটা ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রার মধ্য থেকে ৬৬.৫১ মেঃটন অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

বিশ্বজিত দাস, হোসেন মিয়া, দিলোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, করোনার প্রভাবে এবার স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরাও ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সরকারিভাবে দ্রুত ধান ক্রয় শুরু হলে প্রান্তিক কৃষকেরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে যাবেনা না। আর কম দামে ধান বিক্রি করলে কৃষকের লোকসান হবে। সরকার পুরোদমে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত বলে অভিমত জানিয়েছেন এলাকার সুধিজনেরা।

ডেসিমি/ইই





© All rights reserved © 2018 dailysylhetmedia
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ