বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ : :
জালালাবাদ এসোসিয়েশন ফ্রান্স শাখার ইফতার বিতরণ মরহুমা হাজী আফতারা বিবি চৌধুরী ট্রাষ্টের ব্রিটিশ সলিসিটর প্রিন্স সাদিক চৌধুরীর পক্ষ থেকে ইফতার বিতরণ সিলেটে প্রতিবন্ধী পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন ছাত্রলীগ নেতা ঝুটন প্রবাসীরা দেশের মাটি ও মানুষের কথা সব সময় মনে রাখেন : নাদেল গরীব ও দুস্থদের মাঝে ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট মহানগরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস মিয়ার মৃত্যুতে আ.ন.ম. ওহিদ কনা মিয়ার শোক শ্রমজীবী মানুষের মাঝে জেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিলেটবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিমেবি’র উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী মন-তরী ফাউন্ডেশন এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন নবীগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীর আত্মহত্যা, শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করেছে বলে অভিযোগ : স্বামী আটক ‘প্রবাসে পশ্চিম বিশ্বনাথ ইউকে’র আত্মপ্রকাশ শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার কোয়াড নিয়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলেছে চীন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী শতভাগ উৎসব ভাতার দাবীতে শিক্ষক ফোরামের স্মারকলিপি প্রদান কামরান পরিবারের ঈদ সামগ্রী বিতরণ গ্রেটার সিলেট ইউ.কে’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবরের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা উৎমা কোয়ারী ইজারা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি গোয়াইনঘাট উপজেলাবাসীকে চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাবের ঈদ শুভেচ্ছা দেশবাসীকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য আলী হোসেন আলম’র ঈদ শুভেচ্ছা
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারো প্রমাণ করলেন তিনি একজন ঝানু কূটনীতিক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারো প্রমাণ করলেন তিনি একজন ঝানু কূটনীতিক

বাংলাদেশের ইতিহাসে সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যিনি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তিনি আমাদের সিলেটের কৃতি সন্তান ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি। সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকার জন্য অগ্রিম টাকা নিয়েও বাংলাদেশে টিকা সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ভারত সরকারের এই চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টি বাংলাদেশ মেনে নিতে পারে নি। বাংলাদেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে টিকা সরবরাহের অনুরোধ করেছে, ভারত প্রাথমিক জবাবে তাদের অপারগতার বিষয়টিই জানিয়েছে বলে জানা যায়।
বিষয় দু’টি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন নড়ে চড়ে বসেন।

সম্প্রতি অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের এক জনসভায় বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়ে আবারও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গরিব মানুষ এখনও খেতে পায় না, তাই ভারতে আসে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত দিয়ে ‘কোনও মানুষ দূরে থাক– একটা পাখিও ঢুকতে পারবে না।’ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য দাবি করছে, তাদের শাসনামলে অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার যা বলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অমিত শাহের বাংলাদেশ নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ, অবমাননাকর মন্তব্য করার ইতিহাস দীর্ঘ। প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশিদের নিয়ে অবমাননাকর কথা বলেন তিনি। ২০১৯ সালে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশিদের খুঁজে খুঁজে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। ২০২০ সালের নভেম্বরে বিএসএফ-এর সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন বাংলাদেশ থেকে ভোটার গিয়ে ভারতে ভোট দিয়ে আসে। সীমান্ত সিল করে দেওয়া হবে, যাতে ‘মশা-মাছিও’ ঢুকতে না পারে। তার এসব আপত্তিকর মন্তব্যের মধ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশিদের ‘উইপোকা’ বলার বিষয়টি ভারতেও সমালোচিত হয়।

আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য যে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন তা তথ্য প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর জ্ঞান সীমিত। বরং ক্ষেত্রবিশেষে বাংলাদেশ তাদের দেশ থেকে অনেক এগিয়ে।

ড.মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যখন এতটা গভীর, তখন এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আর এ ধরনের মন্তব্যে সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী লোক আছেন, দেখেও দেখেন না, জেনেও জানেন না। তবে তিনি (অমিত শাহ) যদি সেটা বলে থাকেন, আমি বলব, বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর জ্ঞান সীমিত। আমাদের দেশে এখন কেউ না খেয়ে মরে না। এখানে কোনো মঙ্গাও নেই।’
সামাজিক অনেক সূচকে বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ভারতের লোকদের ৫০ শতাংশের ভালো কোনো শৌচাগার নেই। আর আমাদের ৯০ শতাংশ লোকই ভালো শৌচাগার ব্যবহার করেন। তারা যদি এ ধরনের চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আমি বলব, তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ভারতের কয়েক লাখ মানুষ বাংলাদেশে চাকরি করে। তাই আমাদের ভারতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।’

ভারত যেভাবে টিকার চালান আটকে দিয়েছে, এটা একরকম বিশ্বাসভঙ্গ, যা বন্ধুপ্রতিম একটি দেশের পক্ষ থেকে অপ্রত্যাশিত এবং অগ্রহণযোগ্য।
বিষয়টি নিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘টিকা কূটনীতি’ শুরু করেন। তিনি এ ক্ষেত্রে চীন এবং রাশিয়াকে প্রাধ্যান্য দিয়ে ‘বিকল্প উৎস’ থেকে টিকা সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেন।
এ অবস্থায় ভ্যাকসিন সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন গত ২৩ এপ্রিল জানান, রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-৫ দেশেই উৎপাদনের জন্য মস্কো-ঢাকা সম্মত হয়েছে। চলছে চীনা ভ্যাকসিন আনার আলাপ-আলোচনাও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে টিকা উৎপাদন করতে রাশিয়ার প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি। কারণ আমরা সেটা তৃতীয় দেশেও বিক্রি করতে পারব।

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ কার্যক্রমে চীনের সম্পৃক্ততাকে ভারত খুব একটা ভালো চোখে না দেখলেও বাংলাদেশের ‘টিকা কূটনীতি’ বাংলাদেশের জন্য একটা সফল উদ্যোগ।
বিবিসি বাংলা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে চীন ভারতকে বাদ রেখে দক্ষিণ এশিয়ায় টিকার স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি তৈরিরও প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের সায় রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ এই কাঠামোতে যোগ দিতে ‘নীতিগতভাবে সম্মতি’ জানিয়েছে এই বলে যে ঢাকার এই স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিতে যোগ দিতে কোন আপত্তি নেই। সম্মতি জানিয়েছে প্রস্তাব পাওয়া অন্য দেশগুলোও।
তিনি বলেন, “অনেক সময় বিভিন্ন দেশে হঠাৎ ভ্যাকসিনের ঘাটতি দেখা যায়। তখন তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টিকার দরকার হতে পারে। এজন্য চীন এমন একটি স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি তৈরি করতে চায়, যাতে জরুরি সময়ে এই স্টোরেজ থেকে টিকা সরবরাহ করে প্রয়োজন মেটানো যায়।”
এই উদ্যোগ থেকে ভারত শেষ পর্যন্ত বাদ থাকবে কি-না, এমন এক প্রশ্নে ড. মোমেন বলেন, ঢাকা এই বিষয়টি সম্পর্কে এখনও জানে না, কারণ প্রস্তাবটি এসেছে চীনে পক্ষ থেকে এবং তারাই এনিয়ে বলতে পারবে।
সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কোভিড-১৯-এর টিকা সবার জন্য সহজলভ্য করার তাগিদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনেকদিন ধরে একই কথা বলে আসছেন।
চীন এখন চাইছে, দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে যদি কোভিড ১৯-এর টিকা জরুরি ভিত্তিতে দরকার হয়, তাহলে যেন তা দ্রুততার সঙ্গে সরবরাহ করা যায়। তবে এই স্টোরেজ সুবিধা কোন দেশে তৈরি হবে, সেটা এখনও নির্ধারণ হয়নি এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।(বিবিসি)

গত ২৭ এপ্রিল করোনা টিকা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি। অত্যন্ত সফল এই বৈঠকে বাংলাদেশ তার অবস্থান তোলে ধরে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের জন্য নির্ভর করছে প্রতিবেশী ভারতের ওপর। কিন্তু দেশটি বর্তমানে টিকা রপ্তানী বন্ধ রেখেছে, ফলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি পুরোপুরি অনিশ্চয়াতার মধ্যে পড়ে যায়। এ থেকে উত্তরণে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘টিকা কূটনীতি’ কাজে আসবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ বিরোধী বক্তব্যের জবাব এবং করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রতিবাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘টিকা কূটনীতি’ আবারো প্রমাণ করলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন একজন ঝানু কূটনীতিক।

মুহিত চৌধুরী
লেখক ও কলামিস্ট

ডেসিমি/ইই





© All rights reserved © 2018 dailysylhetmedia
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ