বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ : :
জালালাবাদ এসোসিয়েশন ফ্রান্স শাখার ইফতার বিতরণ মরহুমা হাজী আফতারা বিবি চৌধুরী ট্রাষ্টের ব্রিটিশ সলিসিটর প্রিন্স সাদিক চৌধুরীর পক্ষ থেকে ইফতার বিতরণ সিলেটে প্রতিবন্ধী পরিবারকে ঈদ উপহার দিলেন ছাত্রলীগ নেতা ঝুটন প্রবাসীরা দেশের মাটি ও মানুষের কথা সব সময় মনে রাখেন : নাদেল গরীব ও দুস্থদের মাঝে ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট মহানগরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস মিয়ার মৃত্যুতে আ.ন.ম. ওহিদ কনা মিয়ার শোক শ্রমজীবী মানুষের মাঝে জেলা ফুল ব্যবসায়ী সমিতির ঈদ উপহার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিলেটবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিমেবি’র উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী মন-তরী ফাউন্ডেশন এর ঈদ সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন নবীগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীর আত্মহত্যা, শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করেছে বলে অভিযোগ : স্বামী আটক ‘প্রবাসে পশ্চিম বিশ্বনাথ ইউকে’র আত্মপ্রকাশ শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার কোয়াড নিয়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলেছে চীন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী শতভাগ উৎসব ভাতার দাবীতে শিক্ষক ফোরামের স্মারকলিপি প্রদান কামরান পরিবারের ঈদ সামগ্রী বিতরণ গ্রেটার সিলেট ইউ.কে’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবরের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা উৎমা কোয়ারী ইজারা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি গোয়াইনঘাট উপজেলাবাসীকে চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাবের ঈদ শুভেচ্ছা দেশবাসীকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য আলী হোসেন আলম’র ঈদ শুভেচ্ছা
শাল্লায় সাবেক চেয়ারম্যানের কারসাজিতে মিথ্যা মামলায় বিপাকে দরিদ্র কৃষক!

শাল্লায় সাবেক চেয়ারম্যানের কারসাজিতে মিথ্যা মামলায় বিপাকে দরিদ্র কৃষক!

শাল্লা প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের শাল্লা থানায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের কারসাজিতে এক মিথ্যা মামলা এফআইয়ের কারণে দরিদ্র কৃষক পরিবারের লোকজন বিপাকে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মামলাটি গত ২০এপ্রিল তারিখ রেকর্ড করা হয়েছে এবং সাথে সাথে একজন নিরপরাধ বয়স্ক লোককে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছিল। যদিও তিনি জামিনে মুক্ত আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯এপ্রিল উপজেলার ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের শাল্লা গ্রামের মন্নান মিয়ার ছেলে সুজানুর মিয়া ও মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে হারিছুজ্জামানের মধ্যে বসত বাড়ির সীমানা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় হারিছুজ্জামান ও তার সঙ্গীয় লোকজন সুজানুরকে ওই গ্রামের মোতালেব মাস্টারের বাড়িতে বেধরক মারপিট করে এবং সুজানুরের বসত ঘর ভাংচুরসহ লুটপাট চালায়। ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথে হারিছুজ্জামান একই গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরীর মাধ্যমে শাল্লা থানার পুলিশ পাঠিয়ে সুজানুরের পক্ষের একজনকে গ্রেফতার করে।

হারিছুজ্জামনের লোকজনের বেধরক আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় সুজানুরকে পার্শ্ববর্তী আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে হারিছুজ্জামানের লোকজনও একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
পরে থানায় এসে হারিছুজ্জামান বাদী হয়ে সুজানুরসহ ৭জনকে আসামী করে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩২৬ ধারাসহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা রেকর্ড করে। কিন্তু ওই মামলায় যাদেরকে গুরুতর জখমী দেখানো হয়েছে তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নই নেই বলে জানান স্থানীয় লোকজন।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একই দিনে উভয়পক্ষের লোকজন ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তিকৃত রোগী সুজানুর মিয়া, কামরুজ্জামান, হারিছুজ্জামান ও নজির মিয়ার ভর্তির সময়ে তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল জানতে চাইলে হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মনির হোসেন জানান, সুজানুরের শারীরিক অবস্থা খুবই আশংকাজনক ছিল। তাকে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অন্য রোগীদের শরীরে গুরুতর আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিলনা। তিনি আরো বলেন, কামরুজ্জামান নামের একজন রোগী নিজের ইচ্ছেয় হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের রেফার্ড গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে সুজানুরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি কি বলবো ভাই। আমি গরীব মানুষ, আমাকে তারা এবাড়ি থেকে বিতারিত করতেই আমাকে প্রাণে মারতে চেয়েছিল। আল্লাহ্র রহমতে ও মুরব্বিদের দোয়ায় এখনো বেঁচে আছি। তিনি আরো বলেন, আমাকে মেরেছে, আমার ঘর-দোড় ভাংচুর করেছে, তাতে কোনো দূ:খ নেই। দূ:খ একটাই মার খেলাম আমি, মামলাও হলো আমার বিরুদ্ধে। ওইসময় কেঁদে কেঁদে তিনি অরো বলেন, ভাই কি করবো, তাদের বড় বড় নেতা আছে। আমার কোনো নেতা নেই। বড় বড় নেতা আছে বলে কি বুঝাতে চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরীই মোবাইল ফোনে আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেন এবং আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দেন। দেখেন, তাদের একজন লোকও আহত নেই।
আপনি থানায় মামলা করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু এখনো তা মামলা আকারে রেকর্ড হয়নি।

হারিছুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বাড়ির সীমানা নিয়ে মারামারি হয়েছে। এতে আমার ভাতিজা নজির মিয়া গুরুতর আহত হয়েছে। আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মনির হোসেনের নাম বলতেই তিনি ফোনটি কেটে দেন।

সরজমিনে শাল্লা গ্রামে গিয়ে গ্রামের সাধারণ লোকজনের সাথে কথা হলে ওই গ্রামের মোতালেব মাস্টার বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরীর চাচাতো ভাইয়ের দোকান ভাংচুর ও লুটপাট হয়নি। তবে যে ঘটনা ঘটেছে, তা আমার বাড়িতে আমার সামনেই ঘটেছে। আল্লাহ্র রহমতে ও সকলের চেষ্টায় সুজানুরকে বাঁচাতে পেরেছি। হারিছুজ্জামানের লোকজন সুজানুরকে গলাচেপে ধরে মারার চেষ্টা করেছিল। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেছি কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরীর কারণেই বিষয়টি এতোদূর গড়িয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য মোঃ সাবুল মিয়া বলেন, আবুল লেইছ চৌধুরীর ইশারায় হারিছুজ্জামান ও তার লোকজনই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তবে সাবেক চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরীর ক্ষমতাইয় তারা এ ন্যাকারজনক কাজটি করেছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে সহজ-সরল সুজানুর ও তার লোকজনকে বিপাকে ফেলা হয়েছে। সবকিছুর মূলে একমাত্র আবুল লেইছ চৌধুরীরই দায়ী।
এব্যাপারে শাল্লা উপজেলা আ:লীগের সাংগঠনিক স¤পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল লেইছ চৌধুরীর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে দুই পক্ষের মধ্যে। এখানে আমার কোন হাত নেই। পরে তিনি কথা না বলে রেগে লাইনটি কেটে দেন।
এবিষয়ে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূর আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামীদের মধ্যে যারা নিরাপরাদ তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে।

ডেসিমি/ইই





© All rights reserved © 2018 dailysylhetmedia
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ