শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

শীর্ষ সংবাদ : :
করোনা ভ্যাক্সিন সহজলভ্য করতে জাতিসংঘকে ভূমিকা নিতে বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ এক বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে : এড. নাসির খান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিটের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত সিলেটে ‘ডেভেলপ আওয়ার বিজনেস বাই স্টোরি সেলিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সিলেটে যেসব এলাকায় শুক্রবার বিদ্যুৎ থাকবে না চা শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারণের দাবীতে সিলেট ভ্যালীর আলোচনা সভা সাবেক মেয়র কামরানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল উন্নয়নের স্বার্থে দলের টানে সবাই আজ এক মোহনায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিটের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ : ৭ মাসেও আলো দেখেনি তদন্ত কমিটি সিলেটের গোয়াইনঘাটে মাসহ দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা আজ থেকে ট্রাফিক পক্ষ শুরু হচ্ছে সিলেটে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন হাবিবুর রহমান কামরানের ১ম মৃত্যু বার্ষিকীতে জেলা আওয়ামী লীগের মিলাদ মাহফিল বড়লেখায় দৌলতপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে নির্মাণাধীন মসজিতে নগদ অর্থ প্রদান বিএনপি নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকের রোগমুক্তি কামনা করেছেন নাসিম বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার রায়ের পরলোক গমন সিলেট সদর দলিল লেখক সমিতির আয়োজনে সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্রার পারভীন আক্তারের বিদায় সংবর্ধনা ‘মান্নান আমার বন্ধু’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস
হাওর উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সময়ের দাবি!

হাওর উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সময়ের দাবি!

শান্ত কুমার তালুকদার :: বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষিই এ দেশের একমাত্র উপজীব্য। তাই কৃষিকে শিল্পায়নে রূপান্তর, কৃষির সাথে সম্পৃক্ত জনকে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা, আবাদযোগ্য জমির মান-উন্নয়ন ও নিরাপত্তা, জলবায়ূর ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয় রোধসহ অনেক কিছুই ভাবনায় এনে সঠিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, কৃষি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন সৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাশাপাশি মৎস্য অভয়াশ্রম নির্মাণের গুরুত্বও অপরিসীম হয়ে পড়েছে বর্তমানে। বর্তমান খাদ্যশস্য সহ সামগ্রিক আবাদযোগ্য সুবিশাল হাওর অঞ্চলের ফসলী জমি, খাল-বিল, নদ-নদী খনন ও সংস্কারসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রণিধানযোগ্য।

দেশের বরিশাল, ভোলা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও বি.বাড়িয়া জেলা সমূহে অধিকাংশ বোরো ফসল উৎপন্ন হয়ে থাকে। যা দিয়ে দেশের খাদ্য চাহিদা মেঠানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিচ্ছিন্ন ভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আউস ও আমনের আবাদ হলেও তার উৎপাদন দেশের খাদ্য চাহিদা মেঠাতে লক্ষ্যমাত্রার ক্ষুদ্র অংশও পুরণে সক্ষম নয়। তাই বোরো ফসলের উপর অধিক গুরুত্ব দেয়া অত্যাবশ্যক বলে মনে করেন সচেতন মহল।

প্রতি বছর ওইসব হাওর অঞ্চলে উৎপাদিত বোরো ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করছেন মাটির বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। উল্টো ফসলী জমির মাটি দিয়ে নদীর পাড় বেঁধে প্রতি বছর হাওর এলাকার ছোট ছোট নদী-নদীগুলোর নাব্যতা হারানো হচ্ছে। পর্যবসিত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। হারিয়ে যাচ্ছে মিঠাপানির মৎস্য অভয়াশ্রম।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সুবিশাল হাওর সমূহ ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ পওর বিভাগ কর্তৃক যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণে সঠিক পরিকল্পনার রয়েছে যথেষ্ট অভাব। হাওরের মৎস্য অভয়াশ্রম খাল-বিল, নদ-নদী পলিভরাট হয়ে হারিয়েছে ভারসাম্য। ফলে দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও জাতীয় উৎপাদন স্বল্পতা।

যেকারণে হাওর অঞ্চলের শ্রমজীবি লোকজন জীবিকার তাগিদে রাজধানী শহর ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে গিয়ে পোষাক শিল্পে স্বল্প বেতনে নিয়োজিত হচ্ছেন। যা অদূর ভবিষ্যতে ওইসব শহরের শুধু ভারসাম্যই হারাবে না দেখা দিতে পারে নানা বিপর্যয়। তাই ওইরকম বাণিজ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান সমূহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্থাপন করাটা সময়ের দাবি। সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ট্যাকনোলজি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এরই পাশাপাশি যদি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান জেলায় জেলায় স্থাপন করা হলে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা হবে দেশ।
সরকার জলমহাল ব্যবস্থাপনায় ২০০৯ নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। তাতে প্রকৃত মৎস্যজীবিদের সমন্বয়ে গঠিত মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি সমূহকে প্রাধিকার দেয়া হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মৎস্য অভয়াশ্রম নির্মাণে সরকারী জলমহাল সমূহ ওইসব সমিতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইজারা বন্দোবস্ত দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে এবং দেশের হাওর অঞ্চলের অধিকাংশ জলমহাল সমূহ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইজারা বন্দোবস্ত দেয়াও হচ্ছে। যদিও জলমহাল নীতিমালা ২০০৯ এ দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইজারা বন্দোবস্ত দেয়ার শর্ত মোতাবেক ইজারাদার সমিতিকে কিছু শর্ত বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু ইজারাদার সমিতি সমূহ ওইসব শর্ত পালনে রয়েছেন উদাসীন। পাশাপাশি সরকারী স্থানীয় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনের মনিটরিংয়ের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের অনেক কিছু।

তাই ফসলী জমির উর্বর মাটি নদীতে না ফেলে সুবিশাল হাওর অঞ্চলের নদ-নদী সমূহ দ্রুত খনন, সরকারী ইজারাযোগ্য জলমহাল সমূহ খনন, হিজল-খরচ বৃক্ষ রোপণ, সরকারী খাস পতিত রকম ভূমিতে ও নির্মিত রাস্তার পাশে বেশি বেশি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে হাওরের নিরাপত্তা বিধান করা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই হবে আধুনিক কৃষি বিল্পব।

ডেসিমি/ইই





© All rights reserved © 2018 dailysylhetmedia
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ